Safi Mind’s Life Story In Bengali || Safikul Life Story In Bengali

আমি কি পারবো আমি আমার জীবনে সফল হতে ? আমি পারবো আমার ফ্যামিলি কে সুখী রাখতে ? আমি কি পারবো আমার ভালোবাসা কে আটকে রাখতে ? বন্ধুরা আমার জীবনের কিছু ভয়ানক ঘটনা গুলি আমার এই জীবন কাহিনী ব্লগ এ পড়তে পারেন এবং আমি হয়তো যে যে ভুল করেছি, সে ভুল আপনি আপনার জীবনে অব্যশই ঠিক করতে পারেন।

আমি সাফি, আমি একজন সাধারণ ছেলে। আমিও সব ছেলের মতো একটি সাধারণ ছেলে। তো বন্ধুরা আমি আমার লাইফ এর ব্যাপারে কিছু বলতে চাইছি, তাই এই bio আমি লিখছি। এখানে জানবেন একটা সাধারণ গ্রামের ছেলের ব্যাপারে। খুব মজা লাগছে তাই না ? তো চলুন জানা যাক আমার ব্যাপারে।

আমি একজন সাধারণ ছেলে, আমার নাম সাফিকুল এবং আমার জন্ম ০৭/০৪/১৯৯৯ সালে।   আমি নিয়ামতপুর এর একটা ছোট্ট একটা গ্রাম ভগবানপুর গ্রামে থাকি। বন্ধুরা আমি একটা দরিদ্র পরিবারের একটা সাধারণ ছেলে।

আমি এখন বর্তমানে মালদা কলেজ এর ছাত্র।  জাস্ট কয়েকদিন হলো আমি আমার পড়াশুনা শেষ করেছি। অনেক স্ট্রাগল করে আমি আমার পড়াশুনা ২০২১ সালে শেষ করেছি কারণ আমাদের এখানে এইরকমই  হয় , কেও কেও তো আমাদের এখানে পড়াশুনা শেষ করেনি।  

আমি আমার গ্রামের একমাত্র ছাত্র যে বর্তমানে আমি আমার কলেজ শেষ করেছি।  কারণ আমাদের এলাকায় মানুষ প্রায় অনেক জন গরিব ফ্যামিলি থেকে বিলং  করে।

তাই আমাদের এখানকার ভালো ভালো ছেলে মেয়েও নিজের পড়াশুনা শেষ না করে, ছোটো থেকে কাজ করে।

আমিও কিছু এইরকম করতাম কিন্তু কত কি কঠিন ভাবে আমি আমার কলেজ শেষ করেছি সেটা আপনি আমার পুরো জীবনের কাহিনী পরে হয়তো বুঝতে পারবেন যে একটা গরিব ছেলে কিভাবে তার নিজের পড়াশুনা শেষ করে।

আর সব থেকে বড়ো কথা আমি কোনো রাইটার নাই যে আমি অন্য রাইটার এর মতো পুরো শুদ্ধ ভাবে আমি আমার জীবনের কাহিনী লিখতে পারবো।  

তো প্লিজ বন্ধুরা এবং আমার বড়ো  এবং ছোটো  সবাইকে সম্মান করে বলি , যে আমি অনেক জায়গায় ভুল করেচি এই কাহিনী লিখতে, তো পারলে ক্ষমা করে দিবেন।  কিন্তু আমি এইটুকু জানি আপনি অনেক ভালো করে বুঝতে পারবেন।

আর আমি এই কাহিনী তা লিখতে কত সময় লাগবে এটাও জানি না।  যদি পুরোদিন করে যদি লিখি তাহলে অনেক তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে।  কিন্তু আমার অনেক কাজ থাকে তাই যখন একটু সময় থাকে আমি লিখতে বসে যাই।

আমি কি পারবো আমি আমার জীবনে সফল হতে? তো চলুন এবার শুরু করা যাক আমার জীবন কাহিনীর ব্যাপারে  জানতে।

বন্ধুরা আমার ঠিক মনে নাই আমার ছোটকালের কথা, কিন্তু আমি যতদূর জানি আমি বলার চেষ্টা করবো।  

আমি ছোটবেলা থেকেই নানীর বাড়িতে থাকি, কারণ আমার মায়ের কোনো ভাইবোন না থাকায়, আমরা ছোটবেলা থেকেই নানীর বাড়িতে থাকতাম।

কারণ নানীর বাড়ি এবং দিদার বাড়ি একই গ্রামে। আমাকে আমার নানীর বাড়িতে বেশি ভালো লাগতো তাই আমরা সবাই নানীর বাড়িতে থাকতাম।

আমরা মোট ২ ভাই এবং ৩ বোন  এবং সব থেকে ছোট আমি। সাফিকুল, আমি ১৯৯৯ সালের এপ্রিল মাসের ৭ তারিখ জন্ম গগ্রহণ করি।

আমরা ছোটবেলা থেকেই অনেক কষ্ট করেছি। কারণ আমাদের ফ্যামিলি অতটা আর্থিক দিক থেকে ভালো ছিল না।

আমাদের পরিবারের আমার বাবার ইনকাম আমাদের পরিবার চলতো। ছোট বেলা থেকেই আমি আমার পরিবারের সব থেকে প্রিয় ছেলে।

আমি ছোট বেলা থেকেই আমি আমার বাবা মা কাছ থেকে এবং আবার আত্মীয় দেড় কাছে অনেক সম্মান পেয়েছি।

আমার মনে আছে আমার বাবা যখন কাজে যেত আমাকে প্রত্যেকদিন বড়ো কইন এর ১ টাকা দিয়ে যেত এবং আমি ওটাতেই অনেক হ্যাপি থাকতাম।

আমাকে ছোট বেলা থেকেই আমাকে গ্রামের খেলা গুলো খেলতে অনেক ভালো লাগতো। আমাদের গ্রামে অনেক ধরনের খেলা হতো এবং গ্রামের খেলা গুলির ব্যাপারে  আশা করছি সবাই জানো ?

যতই যে যা বলুক গ্রামের খেলার মতো কোনো আনন্দ কোথাও নাই।  ঠিক বললাম ?

আমাদের গ্রামেও সব গ্রামের মতো অনেক ধরণের খেলা হতো ছোট বেলায় , আমরাও অনেক ধরণের খেলা খেলিছি 

যেমন ___ ডালভাত , ডান্ডাপুত্তি , গুলি, লাটু , চর পুলিশ , ক্রিকেট , ফুটবল, দড়ি লাফ, ঘুড়ি (ঘুড়ি কে আমাদের ভাষায় গুড্ডি বলতো ) আরো অনেক ধরনের খেলা আমরা ছোটবেলায় খেলেছি এবং আমাকে সবধরণের খেলা ভালো লাগত।

আমার সব খেলায় প্রিয় ছিল।  আমাকে সব খেলায় খেলতে ভালো লাগতো।  আর সব থেকে বেশি ভালো লাগতো – ক্রিকেট , লাটু , গুলি, ঘুড়ি, কাবাডি, চোরপুলিস এইসব খেলা।

একদিন আমরা খেলতে খেলতে একটা আমাদের গ্রামের ছেলে আমার চোক একটা পাতা নিয়ে মেরেছিলো তো।

আমিও তাকে খুয়া নিয়ে মারতে গিয়ে একবার তার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিয়ালাম এবং আমাকেআমার মা ও মেরেছিলো।

তাই বলি বেশি রগে কাওকে কেও মারিও না।এটা একটা খারাপ জিনিস করেছি ছোট বেলায়।

আমি জানি আমি ছোট বেলায় অনেক ভুল করেছি কিন্তু ঠিক মনে পড়ছে না। 

 যতই যে যা বলুক বাবা যখন কাজ থেকে বাড়ি আসতো  এবং তখন অনেক আনন্দেই থাকতাম কারণ আমি জানতাম, বাবা কোনো না কোনো কিছু অবশই খাবার নিয়ে এসেছে।

আর আমার বাবা আমাদের জন্য টাকা রোজগার হোক চাই না হোক কিন্তু আমাদের জন্য প্রত্যেকদিন খাবার নিয়ে আসতো।ওইদিন গুলো আমি কখনো ভুলতে পারবো না।

আমাদের গ্রামে সবাই খেলা ধুলা করতে ভালোবাসতো।  আমরা সবাই মাইল অনেক ধরণের খেলা খেলতাম।

আমরা ছোটবেলায় আমাদেরর ভগবান পুর এর  বিদ্যালয় থেকে পরে এসে, সবাই মাইল খেলতে যেতাম।

  আমরা সবাই আমাদের এদিকের বাগানে খেলতে যেতাম এবং আমরা সবাই মাইল মিশে খেলতাম কিন্তু আমাদের খেলায় ঝগড়া অনেক হতো।

আমাদের গ্রামের বন্ধু গুলোর নাম হচ্ছে – বিবাউল , আনিস , সোবরাতি , কিসমত , মাসুম , সাবিউল, মতিউল , আরো অনেকেই আমরা সবাই মাইল খেলা করতাম।

বন্ধুরা আমাকে ছোট বেলা থেকেই পড়াশুনা করতে ভালো লাগতো না।

  আমাকে শুধু সবার সাথে খেলাধুলা করতেই ভালো লাগতো।

  কিন্তু পড়াশুনা আমার জীবনে এতবড়ো বদলাবে আমি কখনো ভাবতে পারিনি।  

বন্ধুরা আমাকে ছোট বেলা থেকেই পড়াশুনা করতে ভালো লাগতো না।

  আমাকে শুধু সবার সাথে খেলাধুলা করতেই ভালো লাগতো।

  কিন্তু পড়াশুনা আমার জীবনে এতবড়ো বদলাবে আমি কখনো ভাবতে পারিনি। 

আমি মোটামোটি ৪ বছর বয়সেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়।

 কিন্তু আমার স্কুল জীবনেও কিছু আলাদা জিনিস ঘটেছে। 

আমি যখন স্কুলে ভর্তি হতে যাই তখন আমার দুটো  দিদি স্কুলেই পরে।  একটা দিদি আমার যতদূর মনে আছে চতুর্থ এবং একটা দিদি তৃতীয় শ্রেণীতে পড়তো।

কিন্তু ——- আমাদের এখানে দুটো স্কুল থাকায় আমি আমার গ্রামে যেটা স্কুল আছে সেটা স্কুল আমি গিয়েছিলাম, কিন্তু —- আমি স্কুলে ভর্তি হয়ে না।  আমি এমনি স্কুল যেতাম।  এককথায় Without any admission আমি স্কুলে যেতাম।

কিন্তু আমাদের গ্রামের স্কুলে ভালো করে পোড়ানো হতো না।  বলেই আমাকেও আমার বাড়ি থেকে আমার দিদি যে স্কুলে পরে সেখানে আমাকেও পাঠানো হয়।

আমার এখনো মনে আছে সেই কৃষ্ণনগর স্কুল এর প্রথম দিন।  যেহেতু তখন বয়স অনুযায়ী পোড়ানো হতো না।  তাই আমাকে ছোটতেই আমি স্কুল যেতে শুরু করেছিলাম।

কিন্তু আমাকে তো আমার গ্রামেই স্কুল এ অনেক পছন্দ ছিল কারণ এ আমাদের গ্রামের ভগবানপুর এর স্কুল সকাল ৭ টাই শুরু হতো এবং ১০ টাই ছুটি।

আর আমি স্কুল ছুটি হবার পর থেকেই আমি বাইরে বা বাগানে খেলতে বের হয়ে যেতাম।

তাই আমাকে আমাদের গ্রামের স্কুল অনেক পছন্দ ছিল। 

কিন্তু আমার বাড়ি থেকে আমাকে সেটা করতে না দিয়েই আমাকে আমার মা দুটোই স্কুল এ যেতে বলতো।

এই ভাবেই আমি ক্লাস ৩ পর্যন্ত দুটো স্কুলে পড়াশুনা করতাম।

 তারপর আমার মা আমাকে চতুর্থ শ্রেণীতে বিবেক স্যার বলে একটা স্যারের কাছে আমাকে প্রাইভেট ধরাই।

কিন্তু সেখানে আমার ভালো করে পড়া না হবার কারণে আমি সেখানে অনেক মার্ খেয়েছি সেই ভয়ে আমি সেখানেও একটু ফাঁকি দিতে 

শুরু করলাম।

তারপর আমি কৃষ্ণনগর এর স্কুল ছেড়ে আমি আমাদের গ্রামের স্কুলে বেশি করে যেতে শুরু করলাম কারণ আমাকে আমার গ্রামের স্কুল পড়তে ভালো লাগতো।

 আমাদের গ্রামে স্কুলে আমাদের ক্লাস এ মাত্র ১৬ জন ছাত্র ছাত্রী ছিল তার মধ্যে আমি ১ তাই ছেলে আর বাকিসব মেয়ে ছিল।

আমি যতই ফাঁকি দিয়েছি কিন্তু আমি স্কুলেই পরেই আমি সবার থেকে ভালো পড়া দিতাম।  আমি কৃষ্ণনগর স্কুলেও সব ক্লাসে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানে  থাকতাম।

আমি আমার গ্রামের স্কুলে

আমি স্কুলে অনেক ফাঁকি দিতাম কিন্তু জানিনা কেন – যখন স্কুলে কোনো স্যার বা দিদিমুনি কিছু বুঝাতো বা কিছু পড়াতো আমি অনেক ভালো ভাবেই শুনতাম এবং বুঝতাম এবং 

পরীক্ষায় আমি সেটা বয়ের ভাষায় না নিজের ভাষায় লিখতাম নিজে যা বুঝেছিলাম ক্লাসে সেই জিনিসটাই লিখতাম এবং সেখানে আমি অনেক ভালো নাম্বার পেতাম।  এটাই ছিল আমার মধ্যে কিছু আলাদা জিনিস।

এবার আসলো আমার সব থেকে আমার জীবনের কিছু আলাদা কাহিনী।  আমি কি পারবো আমার পড়াশুনা চালু রাখতে ? স্কুল জীবনে কি আমি কাওকে ভালোবেসেছি ?

আমার স্কুল জীবনের কি শিক্ষা পেয়েছি? আমি কিভাবে অনেক অসুবিধা থাকায় আমি স্কুল জীবন শেষ করতে পারবো? আমি কি পারবো আমার বন্ধু কে হ্যাপি রাখতে ?

আমি কি পারবো শিক্ষকের কাছে ভালো হতে ? একটা অনেক সাধারণ ছেলে কি ঠিক করে থাকতে পারবে ? আরো অনেক কিছু আমার জীবনের একটু ইমোশনাল কাহিনী এই স্কুল জীবনে জানতে পারবেন।

আমাদের এখানে বেশির ভাগ ছেলেমেয়েরাই নিজের পড়াশুনা চালু রাখতে পারেনি। কোনো কোনো মেয়ের তো অনেক ছোটোতেই বি0য়ে হয়ে যাই।

 আর কোনো কোনো ছেলের বাড়ির অবস্থা অনেক খারাপ থাকায় তাদেরকে পড়াশুনা ছেড়ে বাইরে কাজ করতে যেতে হয়।

ঠিক তেমনি আমার বাড়ির অবস্থাও একই ছিল কিন্তু , আমার মা বাবা অনেক কষ্টে আমার 

পড়াশুনা চালু রাখেএক সময় তো এমনও এসেছিলো যে আমি পড়াশুনা ছেড়ে দিয়েছিলাম।

  কিন্তু একমাত্র মা বাবার কারণে আমি পড়াশুনা ছাড়তে পারেনি।

তো চলুন জানাজাকে আমার উচবিদ্যালয়ের স্কুল জীবন।

  সবার মতো আমিও পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি হবার জন্য ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলাম এবং আমি ২০ এর মধ্যে মাত্র ৮ পাই  এবং আমার পঞ্চম শ্রেণীতে রোল হয়েছিল ৪৮

তারপর আমিও কিছুদিন স্কুল যাই এবং আমি তখন স্কুলে সব থেকে শেষ ব্রেঞ্চে বসতাম।

এদিকে সবাই প্রাইভেট ধরে নিয়েছিল কিন্তু আমি ধরেছিলাম না।

  এদিকে স্কুলে ১০০ জনের বেশি জন আমাদের ক্লাস এ পড়তো এবং সবাই অন্য অন্য জায়গা থেকে এসেছিলো এমন মনে হচ্ছিলো যে আমি সব থেকে পড়াশুনায় খারাপ ছেলে ছিলাম।

এককথায় আমাকে কনেকে ভয় লাগতো সেখানে অনেক ছেলে মেয়েরা যেভাবে পড়াশুনা দিতো ক্লাসে।

  তারপর স্যার আমাকেও শেষ ব্রেঞ্চের ছেলেদের কেও পড়া ধরতো কিন্তু ভয়ে আমি একটু পারলেও কিভাবে বলবো আমি এই ভেবে পড়া দিতাম না।

আস্তে আস্তে আমাকে আরো ভয় লাগতে লাগলো কারণ আমি একা, কেও আমাদের গ্রামে কোনো বন্ধু ছিল না,

কিছু মেয়ে ছিল আমাদের গ্রামের কিন্ত তাদের সাথে মেলামেশা করতে আমাকে অনেক লজ্জা লাগতো।  বলেই আমি ক্লাসে একা  বসে থাকতাম।

আর যখন টিপিন হতো তারপর গ্রামের কিছু বড়ো ছেলেদের সাথে মিশতাম।

কিন্তু সেটাও বেশিদিন চললো না।  ওরাও আস্তে আস্তে ১ বছরের মধ্যে স্কুল ছাড়তে লাগলো এবং তারা বাইরে দাদনে কাজ করতে যেতে লাগল।


আবার আমি আস্তে আস্তে একা হয়ে যাচ্ছিলাম।

এইভাবেই আমি পুরো ক্লাসে একা থাকতে লাগলাম এবং আমি অনেক একা থাকতাম না কোনো কিছু করতাম না পড়া দিতাম না স্কুল ভালো মতন যেতাম।

  আর যেদিন যেতাম সেদিন স্কুলে ভালো করেই আমি স্যার বা মেডামের ক্লাসে পড়া শুনতাম।

এদিকে সবাই প্রাইভেট পড়ার কারণে খারাপ ছাত্র আমার থেকে অনেক এগিয়ে গিয়েছিলো।

কিন্তু আমি পুরো পঞ্চম শ্রেণীতে একদিন ও প্রাইভেট না গিয়ে শুধু স্কুলে স্যার দেড় পড়া শুনতাম এবং চুপচাপ বসে থাকতাম।

আমি প্রায় পঞ্চম শ্রেণীতে ১ মাসে হয়ত ৫ থেকে ৬ দিন মাত্র স্কুল যেতাম।

  আমিও প্রায় স্কুল ছাড়তে লাগলাম।  কোনোরকম আমি পঞ্চম শ্রেণীতে ৬ বিষয়ের মধ্যে ৩ তা বিষয়ে পাস করে যষ্ঠ শ্রেণীতে উঠলাম এবং আমাদের গ্রামের ২ মেয়ে ফেল  করে ওরাও স্কুল ছেড়ে দেয়।

এইভাবেই আমি আমার পঞ্চম শ্রেণী পাস করি।

তাহলে চলো জানি এমন কি ঘটলো তারপর——

কোনোরকম তো আমি যষ্ঠ শ্রেণীতে উঠে গেলাম এবং আমার রোল হলো ৪৭।

 তবুও আমি প্রায় একা  ছিলাম। কেও আমার বন্ধু ছিল না। তারপর মালদার একটা ছেলে আমাদের স্কুলে ভর্তি হয় তারনাম আকরাম।

তার সাথে একটু কথা হয়। কিন্তু তার সাথেও আমার ভালো করে কথা হতো না।

 তখন আবার আমার সাথে একরকম হতে লাগে , আমি আবার একা ক্লাসে বসে থাকতাম আমি আবার স্কুলে একা একা  বসে থাকতাম।

আর টিপিন হলে আমাদের গ্রামের ছেলে বিবাউল এর সাথে ঘুরতাম।

  এইভাবে আমি অনেক একা থাকার কারণেই আমি আবার ভালমতন স্কুল যেতাম না।

আর আমার ভালো করে পড়াও হতো না তাই আমি স্কুলে মার্ খেতাম।

  যেহেতু আমি শেষ ব্রেঞ্চে বসতাম , তাই স্যার বার বার আমাকেই পড়া ধরতো।

 আর আসা করি তোমরা ভালোকরেই যেন যে_ যে ছেলে বা মেয়ে শেষ ব্রেঞ্চে বসে স্যার বেশিরভাগ তাদেরকেই বেশি করে পড়া ধরে।

ওই একই ভাবে আমিও শেষ ব্রেঞ্চে বসার কারণে সব স্যার আমাকেও পড়া ধরতো এবং আমি ভালো করে স্কুল না যাবার কারণে আমি পড়া দিতে পারতাম না।

কারণ আমি তখনও প্রাইভেট পড়তাম না কারণ আমি যেখনে পড়তাম সেখানে স্যার অনেক মারতো।

  এই ভয়ে আমি প্রাইভেট ও পড়তাম না।

আমাকে স্কুলে অনেক অপমান টাইপ এর লাগতো।

 কারণ আমি যখন পড়া পারতম না তখন সবাই আমার দিকেদেখতো যেটা আমাকে অনেক খারাপ লাগতো।

তারপর আমি প্রায় স্কুল যাবে ছেড়েই দিলাম।

 এবং যেদিন যেদিন দরকার হতো বা কোনো কিছু থাকতো সেদিন সেদিন শুধু আমি স্কুল যেতাম।  

আর স্কুলে যেদিন পরীক্ষা হতো সেদিন যেতাম।  আমার একটা ছোট থেকেই ভালো জিনিস ছিল আমি পড়া বুঝে আমি অনেক ভালো লিখতে পারতাম।

আর যদি পরীক্ষা শুরু হতো আমি তার ১ দি আগে একটু পরে নিতাম।

 ওই একটু ক্লাসে এবং একটু পরীক্ষার আগের দিন পড়া।  ওই সামান্য পড়াতে আমি কোনো রকম পরীক্ষায় পাস করে নিতাম।

ওই একই ভাবে আমি অনেক অসুবিধা এবং একাকিত্ব ভাবে আমি যষ্ঠ শ্রেণী তে ৭ টা  বিষয়ের মধ্যে ৪ টা বিষয়ে কোনোরকম পাস করে নিলাম।

আমার যে এই অসুবিধা এমনি যাবে আমি ভাবতে পারেনি। যে আমি মাত্র কয়েকদিন পরেই আমি পাস করে যাবো কারণ তখন যে ফেল করতো মানে তাকে ফেল বলেই চলতে হবে।

কিন্তু আমি কোনো প্রাইভেট এবং মাত্র কয়েকদিন স্কুল গিয়েই আমি পাস করবো আমি ভাবতে পারেনি।

  কিন্তু GOD  এর কৃপায় আমি পাস করে যাই।

আমার জীবনের সব থেকে ভয়ঙ্কর কাহিনী ছিল সপ্তম শ্রেনী জীবন।  কারণ এই ক্লাস সেভেন এ আমি স্কুল প্রায় ছেড়ে দিয়ে ছিলাম।  কারণ জানেন ? এমনিতেই আমি অনেক একা ছিলাম আবার এর মধ্যে আমার গ্রামের বড়োরা সবাই স্কুল ছেড়ে দেয় শুধু একজনকে ছাড়া।

আবার তার মধ্যে আমাদের স্কুল এর প্রদীপ বলে একটা স্যার ছিল- কেও যদি একদিন স্কুল না যাই তাহলে তাকে অনেক মারতো।  আর আমি তো এমন ছেলে যে আমি স্কুল মাসে মাত্র ৬ থেকে ৭ দিন মাত্র স্কুলে যাই।

আমার জন্য সব থেকে বড়ো অসুবিধাজনক ক্লাস ছিল সপ্তম শ্রেণী।  এদিকে আমার যে একটা গ্রামের বন্ধু বিবাউল, ওই ও স্কুল ছেড়ে বাইরে চলে যাই কাজ করতে , আবার অন্য দিকে আমাকে প্রায় প্রত্যেক দিন স্কুলে মার্ খেতে হতো।আবার একদিকে আমার কোনো স্কুল বন্ধু ছিল না।

 

যেহেতু আমি একজন last bancher আমি কারো সাথে মিশতাম না কারণ বাকি last bancher রা অনেক বদমাসি করতো যেটা আমাকে অতটা পছন্দ পড়তো না।  এমনি নাই যে আমাকে ভালো লাগতো না , আমাকেও অনেক ভালো লাগতো মাস্তি করতে এবং আমিও অনেক মাস্তি করেছি।

আর আসা করি সব last bancher জানো যে শেষে বসলে কি মাস্তি হয়।  তাই না ?

চলো ছাড়ো —- আমার যে সব থেকে ভয়ঙ্কর দিন ছিল সেটা ছিল ___যেহেতু আমার গ্রামের ছেলে ওই ও স্কুল ছেড়ে দেয় তখন আমিও মন বানিয়ে নিয়েছিলাম যে আমি সপ্তম শ্রেণীতে আর ভর্তি হবো না আমিও টাওয়ার খাটতে যাবো।

আর এটাই ছিল আমার সব থেকে ভয়ঙ্কর দিন গুলো।  আমি ভেবেই নিয়েছিলাম যে আর আমি পড়বো না আমিও আমার গ্রামের ছেলের মতো সবার সাথে আমিও খাটতে যাবো।

কিন্তু কিন্তু কিন্তু ———— আমার মা আমাকে অনেক মারে আমাকে পুরো দিন বাইরে দৌড়াই।  আমিও ভয়ে পুরোদিন বাইরে থাকতাম এবং যখন বাড়ি আসতাম আমাকে আবার আমার মা মারতো।

আমি তোমাদেরকে বুঝাতে পারবো না এইসব দিন আমার জন্য কত্ত খারাপ চলতো।  আর আমি এটাও জানি হয়তো তোমাদেড় জন্য এটা অনেক ছোট কথা লাগবে কিন্তু বলে না

” সবাই বলতে পারবে যে আমিও তোর কষ্ট বুঝি ” ” কিন্তু এটাই সত্যি যে যার কষ্ট ওর ছাড়া ” ” আর কেও বুঝতে পারিনি এবং পারবেও না ”

Safi Mind

ঠিক আমার জন্য এটা আমার জন্য অনেক বড়ো বেপার ছিল যে প্রায় অনেকদিন আমি নদীর ধারে ধারে আমার বাড়ি থেকে ১ কিলোমিটার ২ কিলোমিটার  আমাকে আমার মা দৌড়েছে আমাকে মারার জন্য যে আমি আর পড়তে চাইছিনা এই কথা জেনে।

আমি অনেক মার্ খেয়েছি এবং শেষে আমার মাও হার মেনে নিতো।  আমাকে আমার মা আর কতটা মারতো বোলো ? আমাকে আমার মা মেরে জ্বর পর্যন্ত করিয়ে দিয়েছিল, শুধু মাত্র আমার ভালোর জন্য।

তারপর এইভাবে অনেক দিন হবার পর আমি কোনোরকম স্কুলে ভর্তি হয়ে যাই সপ্তম শ্রেণীতে।

কিন্তু কিন্তু কিন্তু —————–বললাম না এই সপ্তম শ্রেণী আমার জীবন কিভাবে বদলাবে আমি ভাবতে পারিনি।  আমি কোনোরকম সপ্তম শ্রেণীতে যখন ভর্তি হয় তখন আমার রোল হলো ২৮।

যাইহোক যেভাবেই হোক আমার রোল কিছুটা কমেছিল সপ্তম শ্রেণীতে।  তারপর আবার ঘটলো আমার জীবনে কিছু আলাদা জিনিস। আমি কয়েকদিন স্কুল তো গেলাম ভালো করেই।  মুটামুটি ৪ থেকে ৫ দিন স্কুল ভালো করেই গেলাম।  কিন্তু আমার ওই একই অসুবিধা আমাকে স্কুলে একটুও ভালো লাগতো না।

যেহেতু আমার গ্রামের ছেলে বিবাউল ও স্কুল ছেড়ে দেয় —- আমি আবার একা হয়ে গেলাম। তারপর আমি আবার কয়েকদিন স্কুল গেলাম না। 

তারপর আমি স্কুল গেলাম এবং বলেছিলাম না যে আমাদের ক্লাসে প্রদীপ স্যার ছিল যে প্রথম নাম প্রেজেন্ট করতো। আর কেও যদি ১ দিন স্কুল না যাই তাহলে তাকে অনেক মারতো।

তারপর কি আমার রোল ছিল ২৮ তারমানে আমার ২৭ জন আগে ছিল বাস — দেখলাম যে ৪ -৫ জন এর আগের দিন শুধু স্কুল গিয়েছিলো না তো তাদেরকে আমার সামনে অনেক মারলো।

বাস ——- আমাকে তো মার্ থেকে আরো ভয় লাগতে শুরু হয়ে যাই — তারপর আমি কি করলাম

যতই আমরা গ্রামের থাকি–কিন্তু আমাদেরও কিছু বুদ্ধি আছে আমার রোল যখন স্যার ডাকে তারপর আমি নাম প্রেজেন্টই করলাম না। কি বুদ্ধি লাগিয়েছি তাই না ?

আমি এইভাবে কোনরকম করে সেদিন তো বেঁচে গেলাম।  তারপর আমি আবার কয়েকদিন স্কুল গেলাম না।  এদিকে আমার মা আবার জেনে গেলো এবং বুঝে গেলো যে আমি স্কুল যাচ্ছি না।  আমার মা আবার আমাকে অনেক দৌড়ে দৌড়ে অনেক মারলো।

তারপর আবার আমি একদিন স্কুল গেলাম যেহেতু মা সকাল থেকেই আমার উপরে নজর রেখে ছিল।  তারপর কি আমি আবার ওই বুদ্ধি লাগালাম এবং আমি আবার নাম প্রেজেন্ট করলাম না।

এইভাবে মোটামুটি ৩ মাস চলে যাই এবং মাত্র আমি হয়তো ৭ থেকে ৮ দিন স্কুল যাই।   এদিকে প্রত্যেক দিন আমার মা আমাকে মারতো এবং আমি বলতাম আমি আর স্কুল পড়বো না আর এই কথা শুনে আরো আমাকে আমার মা অনেক মারতো।

আর আমি ভয়ে কিছু বলতাম ও না।  কারণ আমি জানতাম যদি স্কুল না পড়ার কথা বলি তাহলে আবার আমাকে অনেক মার্ পড়বে।  একদিন আবার ৪ থেকে ৫ মাস পরে স্কুল গেলাম কিন্তু এইবার আমাকে স্যার ধরে ফেলে এবং বলে যে তুই তো অনেক দিন থেকে স্কুল আসিসনি।

তোর রোল কত আমি তো বললাম এবং স্যার খাতা চেক করে এবং স্যার দেখে যে আমি মাত্র ৫ মাসে ৬ দিন প্রেজেন্ট ছিল।

  স্যার এই খাতা দেখার পর আমাকে ক্লাসের বাইরে লিন ডাউন করিয়ে রাখে এবং আমাকে মারে এবং আমার গার্জেন্ট ডাকে।

তারপর আমি আবার বাড়িতে না কিছু বললাম।  আমি আবার অনেকদিন স্কুল যেতাম না।

কিন্তু আমি সব পরীক্ষা দিতে যেতাম কিন্তু আর খাতা দেখতাম না।  আর আমাদের সময়ে অনেক পরীক্ষা হতো।  আমি স্কুল যেতাম না কিন্তু আমি পরীক্ষায় নিজের অভিজ্ঞতাই আমি ভালো নাম্বার পেয়ে নিতাম কিন্তু আমি খাতা দেখতাম না আর আমি এটাও জানতাম না যে আমি পরীক্ষায় কত পেতাম।  যেহেতু আমি স্কুলই যেতাম না।

তারপর আমার মা আমাকে প্রত্যেকদিন চেক করতে লাগলো যে আমি স্কুল সময়ে যাচ্ছি কি না।

যেহেতু আমি তো স্কুল যেতাম না , তাই আমার মা আমাকে স্কুল ড্রেস পরিয়ে বাড়ি থেকে বের করতো।

* তখন তো আমার কাছে আর উপায় ছিল না।

  আর আমি জানি স্কুল গেলে আমাকে অনেক মার্ পড়বে।  তারপর আমি আবার একটা বুদ্ধি করলাম।

  আমি স্কুল ড্রেস পরে বাড়ি থেকে ব্যাগ নিয়ে বের হতাম কিন্তু আমি বাগানেই থেকে যেতাম।  সত্যি বলছি এই এনজয় টা আমি কোনোদিন ভুলবো না।

এইরকম করেই আমি অনেকদিন কাটিয়ে দিয়েছিলাম।

  এককথায় আর মাত্র ১ মাসের মতো সময় ছিল।  আমার এই বুদ্ধিটাও আমার মা জানতে পেরে যাই।

আর আমি স্কুল কোনোদিন ও যেতাম না শুধু যেতাম পরীক্ষা দিতে।

  তারপর একদিন আমার মাও আমার সাথে স্কুলে আসে এবং আমাদের স্যারের সাথে দেখা করে আমাকে নিয়ে এবং বেশ কয়েকটা স্যার আসে ,

তারপর দেখলাম যে প্রদীপ স্যার ও আসলো সেখানে এবং আমাকে দেখেই চিনে নিয়েছিল এবং আমার মাকে বললো যে আপনার ছেলেকে তো আপনাকে অনেক মাস আগেই ডাকতে বলেছিলাম।  

আপনাকে আপনার ছেলে বলেনি।

কিন্তু আমি তো বলেছিলাম না ভয়ে।  তারপর আমার মা স্যারের সামনে মারতো লাগলো তারপর স্যাররা বললো এখন আর মেরে লাভ নাই।

  আর কয়েকদিন পরে তো ফাইনাল পরীক্ষা আছে প্রত্যেকদিন স্কুল পাঠিয়ে দেখেন পাস করতে পারছে কি না।

যেহেতু স্যার জানতো আমি অনেক খারাপ ছেলে আমি পরীক্ষয় পাস করতে পারবো না।

  তারপর মাত্র ১ মাস সময় ছিল ফাইনাল পরীক্ষার এই ভেবে আমার মা আমাকে প্রাইভেট ধরে বিবেক স্যার এর কাছে।

তারপর আমি প্রত্যেকদিন স্কুল যেতে শুরু করলাম এবং আমি প্রাইভেট ও যেতে শুরু করলাম।

তারপর একদিন স্কুলে গোপাল স্যার বলে একজন এমন ব্যক্তি যা আমার পুরো জীবন বদলে দিয়েছিলো।

  একদিন আমি পড়া করে গিয়েছিলাম এবং সেদিন জানিনা কিভাবে প্রায় সব ছাত্র পড়া করে গিয়েছিলো না।

তারপর স্যার সবাইকে প্রশ্ন করলো এবং প্রথম থেকে শুরু করলো একটাও মেয়ে কেও পেরেছিলোনা না স্যার তাদেরকে ক্লাসে কান ধরতে বলে।

তারপর ছেলেদের কে পড়া ধরলো কিন্তু _____ প্রথম থেকে কোনো ছেলেও পেরেছিলো না।

  আর যেহেতু আমি সব থেকে শেষে বসতাম সবাইকে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলো এবং এক এক করে সবাই মাঠে গিয়ে কান ধরলো এবং অন্য স্যার ও আসে তাদেরকে মারলো।

তারপর আমিও ভেবে নিয়েছিলাম যে আমাকেও অনেক মার্ খেতে হবে।

  আস্তে আস্তে অনেকটা স্যার ক্লাসে এসে জমা হলো এবং শেষে ছিলাম আমি।

*** তারপর স্যার আমাকে প্রশ্ন করলো আর যেহেতু আমি  ১ তাই উত্তর করে গিয়েছিলাম বাস প্রশ্ন বলার সাথে সাথেই আমি একদম পুরো শুদ্ধ ভাষায় স্যারকে পড়া দিয়েদিলাম।

***  তারপর আর কি সব স্যার অবাক হয়ে যাই।  কারণ একটা সব থেকে last bancher এত্ত ভালো পড়া দেখে স্যাররা চমকে গিয়েছিলো।

 সেইদিনটা আমরা এখনো অনেক ভালো করে মনে আছে এবং আমি এইদিনটা আশা করি কোনোদিন ও ভুলতে পারবো না।

*** তারপর স্যাররা আমাকে অনেক সাব্বাসি দেয় এবং গোপাল স্যার আমাকে বলে যে এতদিন তুই কোথায় ছিলিস _ 

তারপর কি আমার আরো কনফিডেন্ট বেড়ে যাই এবং আমি প্রত্যেকদিন ভালো করে গোপাল স্যারকে পড়া দিতে শুরু করলাম।

কিন্তু স্যার আমার নাম সাফিকুল ভালো করে বলতে পারতো না।

তাই স্যার আমাকে ” ভালো ছেলে ” বলে ডাকতো।  আর এই ” ভালো ছেলে ” আমাকে শুনতে অনেক ভালো লাগতো।

যেহেতু আমাকে স্যার “ভালো ছেলে ” বলতে শুরু করে তখন থেকে আমি আরো ভালো করে পড়াশুনা শুরু করলাম।

 যেহেতু আমি একটু ক্লাসে একটু ভালো হয়ে গেলাম।  তখন আমাকে সবাই জানতে লাগলো।

তারপর দেখা হয় মিস্টার, মতিউল , আকরাম এর সাথে তো ক্লাস six থেকেই একটু একটু কথা হতো।

  তারপর কিছু আরো বন্ধু গুলোর সাথে একটু কথা হয় এবং আমিও সবার সাথে একটু মিশতে শুরু করি।

তারপর আমি সপ্তম শ্রেণীতে ৮ টা বিষয়ের মধ্যে ৬ টা বিষয়ে পাস্ করি এবং যেদিন রেজাল্ট নিতে যাই তখন স্যার চমকে যাই _____

কারণ স্যার আমাকে বলেছিলো যে তুই পাস্ করতে পারবি না কিন্তু আমি ৮ টা বিষয়ের মধ্যে ৬ টা বিষয়ে পাস্ করি।

আর তারপর আমার অষ্টম শ্রেনীতে আমার রোল হয় ১৪

যখন আমি অষ্টম শ্রেণীতে উঠি তারপর আমি একটু ভালো করেই পড়াশুনা করতে থাকি।

 তখন আমার ক্লাসে শর্মিষ্টা, দেবপ্রিয়া , বর্ষা , মৌ , চিরঞ্জিত, প্রসেনজিৎ, ছোট্টু , শুভম ,  প্রতাপ , এরাই সব থেকে ভালো পড়া শুনাই ছিল এবং আমি ভাবতাম, এরা অনেক ভালো ছাত্র আমাদের সাথে হয়তো কোথাও বলবে না।

কিন্তু বলে না  ” সময় সবাইকে বদলে দেয় ” ঠিক আমারও সাথে এইরকম হয়।  আমি শেষ ব্রেঞ্চ থেকে আস্তে আস্তে আগের ব্রেঞ্চে আসি তারপর আমি আরো একটু ভালো হলাম তারপর আমি আবার এইরকম করতে করতে দ্বিতীয় ব্রেঞ্চে আসলাম তখন আমার কনফিডেন্ট অনেক এসে গিয়েছিলো।

তারপর আমি আস্তে আস্তে সবার সাথেই কথা বলতে লাগলাম।  তারপর আমি একটু একটু মেয়েদের সাথেও কথা বলতে লাগলাম।  তখন কিন্তু আমি দেবপ্রিয়া বলে একটা বান্ধবী ওর দিকে চাহিদা বার ছিল। ( আর আমি জানি হয়তো তুই ও এই কাহিনীটা পড়ছিস।  তো প্লিজ খারাপ ভাবিস না।  তোকে দেখতে ভালো লাগতো তাই তোর দিকে হয়তো তখন আকর্ষণ বাড়ছিল )

তারপর আমি অনেকটা মেয়ের সাথেও একটু কথা বলতে লাগলাম _ যে কথাটা আমি ভাবতে পারিনি কোনোদিনও যে আমি একটা সাধারণ ছেলে , আমি অনেক পড়াশুনায় ভালো ভালো ছেলে বা মেয়ের বন্ধু হবো।

তারপর আমাকে সবাই পছন্দ করতে লাগলো ( আরে  ওই পছন্দ না কারণ আমার চেহেরা অতটা ভালো ছিল না যে আমাকে কেও ওই পছন্দ করবে ) আমাকে আমার ক্লাসে সবাই জানতে লাগলো।

আমি নিজেকে এতটা বদলালাম যে _ যে ছেলেটাকে কেও চিনতো না, এখন মানে অষ্টম শ্রেণীতে সবাই আমাকে চিনতে লেগেছিলো আমাকে সব স্যার ও চিনতে লাগে।

( তারপর আমি নিজেকে আরো বদলালাম।  আমি জানি আমার এই জীবন কাহিনী একটু ফিল্মি লাগছে কিন্তু বন্ধুরা সত্যি আমি মিথ্যা বলছিনা না।  আমার জীবনে সত্যি এইসব জিনিস ঘটেছে )

তারপর আমি আস্তে আস্তে প্রথম ব্রেঞ্চে শেষের দিকে বসতে শুরু করলাম।  তারপর আস্তে আস্তে আমি প্রথম ব্রেঞ্চের সেকেন্ড এ বসতে লাগলাম এবং যেদিন চিরঞ্জিত আসতো না আমি প্রথম ব্রেঞ্চের প্রথমে বসে যেতাম।

তারপর আমি আমার ক্লাসের ক্যাপ্টেন হলাম এবং ক্লাসের দায়িত্ব আমাকে দিতো স্যার।  যদিও আমি সবাইকে ছুট দিয়ে দিতাম।  আর আমার বন্ধুরা তো আমার কোথায় শুনতো না।  আর ওরা  জানতো যে আমি ওদের নাম কমপ্লেইন করবো না।

তারপর আমি নিজেকে এতটাই বদলালাম যে আমি প্রত্যেকদিন মুটামুটি স্কুলে পড়া দিতাম।  আমি পরীক্ষায় ২০ এর মধ্যে ২০ পেতাম।  এইরকম হতে লাগলো।

 

আমি আমার জীবন অনেক চেঞ্জ করে নিলাম।

তারপর আমি অষ্টম শ্রেণীতে প্রথম ব্রেঞ্চে প্রথমে বসতে শুরু করলাম।   আমার জন্য অনেক বড়ো কথা ছিল যে _

 

” একটা সাধারণ ছেলে শেষ ব্রেঞ্চ থেকে প্রথম ব্রেঞ্চে আসা আমার জন্য অনেক বড়ো কথা ছিল “

 তারপর আমি অষ্টম শ্রেনীতে তৃতীয় স্থানে পাস করলাম এবং আমি ৮ টা বিষয়ের মধ্যে ৮ টাই বিষয়ে পাস করি এবং আমি প্রায় অনেক নম্বর পাই এবং আমার নভন শ্রেণীতে রোল হয় ৩ রোল।

 

আমি নবম শ্রেণীতে নিজেকে অনেক বদলে দিয়েছিলাম। ততক্ষন আমার স্কুলে অনেক বন্ধু এবং বান্ধবী হয়ে গিয়েছিলো।

 

এক সময় ছিল যে আমাকে কারো সাথে স্কুলে কথা বলতে ভয় লাগতো কিন্তু আমি এখন সবার সাথেই কথা বলতে শুরু করেছিলাম।

আমি স্কুলে মেয়েদের কে নিয়ে মজা করতে চাইলেও আমি এতটাই ভদ্র ছিলাম যে আমি শুধু সব সময় বই নিয়েই পরে থাকতাম।

 

আমাদের ক্লাসে প্রায় সবাই স্কুলে ছেলে এবং মেয়েরা সবাই ইয়ার্কি করতো। আমারও ইচ্ছা করতো কিন্তু আমি পারতাম না। এককথায় আমাকে লজ্জা লাগতো।

 

তারপর আস্তে আস্তে আমার স্কুলের সব ছেলে এবং মেয়ের সাথে কথা বলতে শুরু করলাম। কিন্তু আমি শুধু যেটা দরকার থাকতো সেটাই বলতাম।

  কিন্তু ছেলেদের সাথে আমি অনেক ভালো করেই কথা বলতাম। তখন আমার সব ক্লাসের ছেলেরাই আমার সাথে ভালো বন্ধু ছিল।

কিন্তু ক্লাসে সব থেকে বেশি মিশতাম – আকরাম , মিস্টার , প্রতাপ , সাহাবাজ , চিরঞ্জিত , প্রসেনজিৎ , শুভঙ্কর , কার্তিক , মতিউল , প্রতাপ গোস্বামী , আজারুদ্দিন , আরো অনেকেই আছে তাদের সাথে আমি ক্লাসে সব থেকে বেশি মিশতাম।

 

আমি আমার ক্লাসের সব ছেলের সাথেই মিশতাম এবং সবার সাথেই আমি ভালো করে কথা বলতাম এবং এখনো যদি কারো সাথে দেখা হয় তুবুও আমি সবার সাথেই বলি।

আমাকে এইরকম করতে অনেক ভালো লাগে।

 

এইভাবে আমার নবম শ্রেণীও পার হয়ে এবং আমি এখানেও নবম শ্রেণীতেও অনেক ভালো করে পড়াশুনা করি এবং আমি আবার তৃতীয় স্থানে পাস করি।

 

এই শর্মিষ্ঠা এবং বর্ষা এদেরকে আমি নবম শ্রেণীতেও হারাতে না পারলাম।

 কিন্তু আমি চেষ্টা অনেক করেছিলাম। আর হয়তো আমি আইকারণেও তাদেরকে হারাতে পেরেছিলাম না যে _

 

আমি নবম শ্রেনীতেও একটা মাত্র প্রাইভেট পড়তাম এবং তারা জানিনা কতটা পড়তো।

  আমি শুধু আর্টস এর প্রাইভেট পড়তাম কারণ তখন আমাদের পরিবারের আর্থিক এতটা ছিলে না কারণ এদিকে আমার দুটো দিদিরাও পড়তো এবং তারা দুটো করে প্রাইভেট পড়ত।

 

এই কারণেই আমাকে একটা মাত্র প্রাইভেট পড়তে হত হয়তো।

বন্ধুরা আমি দশম শ্রেণীতে উঠে যাই এবং আমাদের দুটো ক্লাস এক সাথে করে দেওয়া হয় এবং আমাদের বিভাগ ক এবং

বিভাক খ মিলে প্রায় ২০০ জন ছাত্র ছাত্রী আমাদের ক্লাসে হয় এবং আমার রোল হয় ৫ তারপর আমাদের ক্লাসে অনেক জন একসাথে পড়াশুনা শুরু করলাম।

আমি দশম শ্রেণীতেও একটা মাত্র প্রাইভেট পড়ি।

  তারপর আবার আমরা সবাই পড়াশুনা শুরু করি এবং আমার অনেক বন্ধু এবং বান্ধবী হয় এবং আমার দশম শ্রেণীতে প্রীতি বলে একটা মেয়ের সাথে দেখা হয়।

 যদি প্রীতি আমাকে অনেক গাল দিতো।  কারণ আমি প্রায় সব সময় পড়া নিয়ে বসে থাকতাম।

তারপর আমার অনেক বান্ধবী বাড়তে শুরু হয়।

  আমাকে সবার সাথে ইয়ার্কি টাইপ এর কথা বলতে খুব ইচ্ছা করতো কিন্তু আমি বলতে পারতাম না কারণ আমাকে অনেক লজ্জা লাগতো।

 আমিও সবার মতো ক্লাসে এনজয় করতে চাইলেও আমি লজ্জায় মেয়েদের সাথে মিশতাম না।

আমার বন্ধুরা সবাই মেয়েদের সাথে মিশতো কিন্তু আমি মিশতাম না।

 আর তখন আমাদের ক্লাসে সব থেকে পপুলার টাইপ এর ছেলে ছিল আজারুদ্দিন, মিস্টার , মতি আরো কিছু বন্ধুরা।

এরা অনেক মেয়ের সাথে কথা বলতো এবং মেয়েরাও বলতো আমার ইচ্ছা করতো এইরকম বলার , কিন্তু লজ্জায় আমি বলতাম না।

তারপর আমরা কোনোরকম এবং গোপাল এর কারণে আমি আরো ভালো করে পড়া করতে লাগলাম।

  এবং আমি মাধ্যমিক দিলাম এবং আমার মাধ্যমিক রেজাল্ট খারাপ হয়ে যাই।

 কারণ আমি ইংরেজি তে কোনো প্রাইভেট না ধরাই আমি ইংরেজি অনেক কম নাম্বার পাই আমি মাধ্যমিক এ মাত্র ২৭ পেয়েছিলাম এবং অন্যান্য বিষয়ে মুটামুটি নাম্বার পাই।

আমার পরীক্ষা খারাপ হবার কারণে আমি মাধ্যমিক মাত্র ৩২৩ নম্বর পাই।

  যেটা আমি অনেক দুঃখিত হয়েছিলাম।

Leave a Comment